মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

বিশেষ অর্জন

 দিন বদলের স্বপ্নে ইউডিসি উদ্যোক্তা হিসেবে আমার সাফল্যের গল্প 

ভূমিকাঃ

২০০৯ সালের পূর্বের দিকে তাকালে আজকের  উদ্যোক্তা অনুপ তার গ্রামের মানুষ-জন তেমন ভাল চিনত না, আজ তার পাশে বসে গ্রামের সবাই ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করছেন। আমার পিতার নাম কার্তিক অধিকারী, মাতার নাম কল্পনা অধিাকলী, ঠিকানাঃ ঝিনা্ইদহ সদর উপজেলাধীন ৭নং মহারাজপুর ইউনিয়নের বড় খড়িখালী গ্রামের দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিলেও আমার স্বপ্ন ছিল তথ্য প্রযুক্তিগত সেবায় গ্রামকে আলোকিত করে বাংলাদেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। আজ আমি বাস্তব রূপ দিয়ে সর্ব ক্ষেত্রে পেয়েছি সম্মানসহ অগণিত প্রশংসা। বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার রূপকল্প বাস্তবায়নে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) অন্যতম হাতিয়ার।

এক সময় ষয়খালী বাজারে কম্পিউটারের দোকান । আয় বাড়ানোর চিন্তা থেকে ২০০৮ সালে একটা কম্পিউটার কিনি। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের কিছু কাজ করতাম। ২০১১ সালে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা হিসেবে নিয়োগ পাই।

ঝিনাইতহ জেলার ৬৭ টি ইউনিয়নে জেলা প্রশাসনের কর্মতৎপরতায় এবং সারা দেশের ন্যায় ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র চালু করা হয়। এসব তথ্য কেন্দ্রে এলাকার লোকজন বিভিন্ন সেবা নিয়ে উপকৃত হয় অনেকে বিদেশে থাকা আত্মীয় স্বজনের সাথে স্কাইপির মাধ্যমে ছবি দেখে খুশি হয়। ২৮ নভেম্বর ২০১১ ইং তারিখে এই খবর ইউডিসি ব্লগে প্রকাশ করা হলে ঝিনাইদহ সদরের মহারাজপুর  ইউডিসির এই কর্মতৎপরতা কে একটি ভাল দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেন এটুআই এর জাতীয় প্রকল্প পরিচালক পিএস ১ টু প্রধানমন্ত্রী ভূয়সী প্রসংশা করে তৎকালীন ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক খাজা আব্দুল হান্নান ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কালাচাঁদ সিংহ মহোদয় দ্বয়কে ই-মেইলে ধন্যবাদ প্রদান করেন ।

এরপর আমাকে পেছনে ফিরতে হয়নি’- প্রযুক্তির মাধ্যমে জনগণের সেবায় দৃঢ়তার সঙ্গে এমন প্রত্যয় ঝিনাইদহের মহারাজপুর ইউনিয়নের জনসাধারনের মাঝে ছড়িয়ে পরে। ২০০৯ সালেও গ্রামাঞ্চলে তথ্য প্রযুক্তির কোন ব্যবহার নেই, কেউ ভাবেনি এক নিমিষে বিদেশে ছেলের সাথে প্রযুক্তির ব্যবহারে সরাসরি কথা বলতে পারবে। অবশেষে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন যখন বাস্তবে গ্রামাঞ্চলের মানুষের হাতের নাগালে চলে আসে, গ্রামের আধার সরে গিয়ে আলোকিত হতে থাকে জীবন ব্যবস্থা। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রামের একজন কৃষক যখন হাতের নাগালে বসে ডিসি অফিসে জমির পর্চা বা নকল উঠানোর আবেদন করতে সক্ষম-তখন তো তাকে বুঝতে কষ্ট হয় না তথ্য প্রযুক্তি সেবায় ডিজিটাল বাংলাদেশ এর ভূমিকা সম্পর্কে। সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন ঝিনা্দইদহ সদর উপজেলার মহারাজপুর প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের জনগোষ্ঠী যেখানে ২০০৯ সালেও তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কীত কোন ধারণা ছিলনা, কেউ বোঝেনি ছেলে-মেয়ের ভর্তি ও পরীক্ষার ফলাফল হাতের নাগালে চলে আসবে। নিজের সম্পদের কাগজ পত্র তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে মুহুর্তের মধ্যে হাতে পাওয়া যাবে। গ্রামের জনগোষ্ঠীকে তথ্য প্রযুক্তির আদলে এনে প্রয়োজনীয় সেবা সমূহ কৃষি, স্বাস্থ্য, প্রশাসনীক কাজ, ছেলে-মেয়ের ভর্তি ও পরীক্ষার ফলাফলসহ জনগণ কেন্দ্রীক সেবা দোড়গোড়ায় নিশ্চিত করণে প্রচেষ্টার অধিক সফলতায় আস্থা অর্জন সম্ভব হয়েছে। অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে জনগণ কেন্দ্রীক সেবা সমূহ জনগণের দোড়গোড়ায় নিশ্চিত করতে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। অসম্ভবকে সম্ভবে রূপান্তরীত করার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় তথ্য প্রযুক্তিগত সেবার মাধ্যমে দ্রুত হয়ে উঠি সাধারন মানুষের আস্থা অর্জনের প্রতীক। আজ আমাকে শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তা  হিসেবে গ্রাম থেকে মন্ত্রনালয় পর্যন্ত সবাই ভুয়সী প্রসংশায় আবদ্ধ করেছেন সেই অচেনা তরুন যুবক আজ  সবার কাছে ঝিনাইদহ সদরের মহারাজপুর ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা অনুপ কুমার অধিকারী পরিচিতি লাভ করে নিজেকে দক্ষ প্রযুক্তির কারিগর রুপে তৈরী করতে পেরেছে-যার অবদান একমাত্র উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন এবং প্রধানমন্ত্রীর কায্যালয়ের এটুআই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আমি তাদের অবদান আজীবন কৃতজ্ঞতার সাথে স্বরন করবো।

সাফল্যঃ

ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে সরকারী-বেসরকারী সেবা সমূহ জনগণের দোড়গোড়ায় নিশ্চিত করার স্বীকৃতি স্বরূপ মহারাজপুর (ইউডিসিউদ্যোক্তা রুপে ২০১২ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তা হিসেবে নির্বাচিত হই। এই সম্মানের উৎসাহে আমি নিজেকে আরও কর্ম-চাঞ্চল্যে করার ফলে আবারও একই বছরে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় জেলা প্রশাসন আমাকে জেলা শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তা-২০১২ হিসাবে পুরষ্কার প্রদান করেন। এরপর মহারাজপুর (ইউডিসিকে জনগণের অধিক আস্থা অর্জনে ব্যাপক পরিসরে তথ্য প্রযুক্তির ব্যাবহার সম্প্রসারণে যুগোপযোগি করার লক্ষ্যে কর্ম চাঞ্চল্যতায় সর্বশক্তি নিয়োগ করি। যার প্রমান স্বরূপ আমাকে আবারও জেলা প্রশাসন জেলা বর্ষসেরা উদ্যোক্তা -, ২০১৪, ২০১৫ ,২০১৬, ২০১৭ নির্বাচিত করেন। এবং ২০১৬ ও ২০১৭ বিভাগীয় সম্মাননা সহ ইউনিয়ন পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ওয়েব পোর্টাল হিসাবে নির্বাচিত হই।

সাম্প্রতিক বিদায় হয়ে যাওয়া ২০১৫ সালে ‘‘এমপাওয়ারিং রুরাল কমিউনিটিম রিচিং দ্যা আনরিচ’’ ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের প্রকল্প সমাপনী অনুষ্ঠানে মহারাজপুর (ইউডিসিউদ্যোক্তা হিসেবে আমাকে খুলনা বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তা নির্বাচিত করেন। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে এক দিকে মানব সেবা করছি, অন্যদিকে প্রযুক্তির ব্যবহারে মহূর্তের মধ্যে মানুষ তার প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদন করার ফলে সাফল্যের ধারাবাহিতকায় আমাকে সকলক্ষেত্রে সম্মানিত করেছে। আমি প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত ইউডিসির মাধ্যমে জনগণকেন্দ্রিক সেবা সমূহ আন্তরিকতার সাথে নিশ্চিত করায় ইউডিসির স্বচ্ছলতা সহ আমার জীবিকায় অনেক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়েছে। গড়ে ১শ’ জনকে সেবা প্রদানের চিত্র ইউডিসি প্রকল্প অফিসে প্রতিবেদন আকারে আয়-ব্যয়ের হিসাব বিবরণী প্রেরণ করি। প্রতিবেদন অনুযায়ী গত বছরের মার্চ থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত আমি আয় করেছি  প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা।

এতদূর আসার পেছনে যাদের অবদান রয়েছে তারা হলেন সদর উপজেলা সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলকার নায়ন, মো: মোস্তাফিজুর রহমান, বর্তমানে শাম্মী ইসলাম ও মহারাজপুর  ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান মো: আবু বকর ও ইউপি সচিব কাজী আবু বিন শায়ায়েত এবং স্থানীয় বে-সরকারী সংস্থা “আশার আলো উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সাংবাদিক মিজানুর রহমান। আমি প্রায়ই স্বপ্ন দেখি প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি আইসিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার। যার কাজ ইতোমধ্যে দুর্গম চর এলাকায় মহারাজপুর  ইউডিসি-২ নামে আরেকটি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় প্রতিষ্ঠায় পৃষ্ঠপোষকতায় অবদান রাখতে পেরেছি। শুধু তাই নয় মহারাজপুর  ডিজিটাল কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের মাধ্যমে বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি।

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter